আমি বড় হলে কৃষক হবো কিন্তু…!-গোলাম রাব্বানী

গোলাম রাব্বানি। স্পশটভাষী এই তরুন একাধারে একজন লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক। তার জন্ম ১৯৮৬ সালের ৩০ডিসেম্বর হবিগঞ্জ শহরে। বর্তমানে তিনি বাংলা নিউজ টুইন্টি ফোর ডট কম এ কর্মরত আছেন।তার গল্প,উপন্যাস এবং নাটক দিয়ে তিনি প্রমান করেছেন মনের অভ্যন্তরে কাজের প্রতি শ্রদ্ধা আর সরল সাবলীল জীবনকে গ্রহন করে লেখার মধ্যেই আসল গল্পকার,ঔপন্যাসিক বা নাট্যকার হবার স্বাদ পাওয়া যায়। পৌছানো যায় মানুষের মনের চিলেকোঠায়। সম্প্রতি bdnews.com কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি তার সাবলিল অভিব্যক্তি প্রকাশের মাধ্যমে আবারো প্রমান করলেন তিনি সাহিত্যিক হতে গিয়ে বারবার মানুষের জন্যেই মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছেন নিজেরি অজান্তে…

আপনার বই এর নাম হুদাই কেনো?

গবেষক হতে চাইনি কখনো। স্রেফ কামলা হতে চেয়েছি। ধান কাটা শেষে কৃষকের দল গরম ভাত খাওয়ার পর বিড়ি টানতে টানতে মশকরা করে যে আনন্দ পায়। সেই পবিত্র আনন্দটুকুন পাবার আশে আমি হুদাই লিখে যাই। কৃষক ধান কাটেন মাথা নিচু করে। আমিও লিখে যাচ্ছি মাথা নিচু করে। কি হলো আর হলো না, ব্যাকরণ আর শব্দের শুদ্ধতা 

নিয়ে গবেষণা করার কাজ গবেষকের আমার না। আর পাঠক আপনি আর আমি একই কাতারের মানুষ। সো সালাম আপনাকে। আসুন রসিক হই রস গ্রহণ করি দিল ভরে। হুদাই-১ এর পর হুদাই-২ নিয়ে হাজির হলাম আপনাদের সামনে। হুদাই টেনশিত হওয়ার কিছু নাই। জীবন তো ফুর্তিবাজ ট্রাক। সে ট্রাকে আপনাকে স্বাগতম। ‘কবিতা সবার জন্য না’ এই গাধা টাইপের কথা যারা বলেন তাদের জন্য এই ‘হুদাই’ পুস্তিকা না। তবে কথা কিন্তু সত্য ‘হুদাই’ সবার জন্য। একটি স্তরে এসে প্রশ্নের আর যখন কোন উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না। সমাধানও নেই…তখন মুখ ফুটে বলে উঠতে হয় ধূর বাদ দেন তো সব হুদাই…জীবন সুন্দর। চলেন ফুর্তি করি…!

নাটক না উপন্যাস কোনটাই বেশী সাচ্ছন্দবোদ  করেন ?

সকল লেখাই লেখতে পছন্দ করি যদি তাতে আমি থাকি। আমি থাকি মানে আমার চিন্তা রাখতে পারি। বেচা বিক্রির টেনশন করতে হয় না। হোক সেটা বাজে লেখা। কারণ সুন্দর আর নতুন চিন্তার লেখাই আমার কাছে আরাম ও আনন্দের লেখা।

আপনি যদি লেখক না হতেন তাহলে কি করতে বেশী  পছন্দ করতেন 

স্কুলে যখন কেউ আমাকে প্রশ্ন করতো বড় হলে কি হবা? আমি উত্তর দিতাম জানি না। স্কুলের গন্ডি পার হবার আগেই লেখার পোকা প্রবেশ করে মগজে। খুবই বেখেয়ালে। লেখক যদি না হতাম তাহলে হয়তো কৃষক হতাম। ধান বুনতাম নরম মাটিতে। আমি বড় হলে কৃষক হবো কিন্তু…!

একজন লেখক হিসাবে আপনার প্রিয় লেখক কে ?

প্রথম কথা হচ্ছে আমার কোন অপ্রিয় লেখক নাই। সকল লেখকেই আমার ভালো লাগে, বিশেষ করে যাদের লেখায় নতুন চিন্তা পাই। চিন্তাশীল লেখক আমার পছন্দ। আল মাহমুদ, বিনয় মজুমদার, আর্নেস্ট হেমিং ওয়ে, আলবেয়ার কামু, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আহমেদ ছফা, শহিদুল জহির এনাদের লেখা বেশি ভালো লাগে।

আপনার শত্রুদের এবং বন্ধু শুভাকাঙ্খীদের নিয়ে কিছু বলুন?

আমি প্রতিদিন শিখতে চাই, প্রতিদিন বুঝতে চাই। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা চাই আমি। কারণ আমার সাধনা করছি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বোকা এবং মূর্খ্য মানুষটি হবার। প্রতিদিন আমি মূর্খ্য হতে চাই…।

বই মেলার পাঠকদের জন্য কিছু বলুন?

সাধারণ পাঠকদের জন্য একটাই কথা। সকল টেস্টের বই প্রথমে পড়তে হবে। নাক ছিটকানো যাবে না। সব টেস্ট নিয়ে এরপর নির্বাচন করতে হবে নিজের টেস্ট। কোন পড়াই বৃথা যায় না।

বর্তমানে আপনার কোন নাটক প্রচারিত হচ্ছে?

বর্তমানে আমার লেখা কোন ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে না। তবে নতুন তিনটি ধারাবাহিক নাটক লেখা চলছে। আর এরই মাঝে বেশ কিছু একক নাটক প্রচার হবার কথা রয়েছে।

ভবিষ্যতে আপনার চলচ্চিত্র নিয়ে কোন কাজ বা কোন পরিকল্পনা আছে?

সিনেমা বানানোর ইচ্ছে নাই। তবে স্বপ্ন আছে ২০২৫ সালে একটি সিনেমা বানানোর।

আপনার সম্প্রতি একটি  নাটক বেশ দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তো আপনি কি ধরনের কাহিনী নিয়ে লিখেন?

নাটকটির নাম ছিলো তবুও জীবন। আর নতুন যে ধারাবাহিকগুলোর কাজ করছি। এর মাঝে একটির নাম ‘ভাই’ ভাই যে একটি সম্পর্ক, একটি শক্তি, একটি প্রতিষ্ঠান এবং সার্বজনিন নাম। সেই গল্পটাই বলতে চাই এ নাটকে। আর ‘থ্রিজি’ নামে আর একটি নাটক লিখছি যেখানে তিন প্রজন্মের তিনজন মানুষের গল্প বলতে চাই আমরা। আর একটি উপন্যাস এর নাট্যরুপ দেবার কথা রয়েছে।

আপনি বাংলাদেশকে কি রূপে দেখতে বা পেতে চান?

আমার মাকে যে রুপে দেখতে চাই সে রুপে আমি আমার দেশকেও দেখতে চাই। আমার মা যখন আমার কোন ভাই বা বোনের জন্য লজ্জিত হন আমার খারাপ লাগে, কিন্তু মা তার খারাপ সন্তানটাকে ফেলে দিতে পারেন না। বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। এ দেশের সকল সম্ভাবনা কাজে লাগুক, কোন অপচয় চাই না।

 আপনার একটি গুন ও একটি দোষ এর কথা বলুন?

আমার গুণ আর দোষ আমি আবিস্কার করতে পারবো না। কারণ আমার কোন ভালো গুণ নাই। আমি খুব ফাজিল টাইপের মানুষ। যা মন চায় তাই করি। ভন্ডামি পছন্দ করি না। যে কারণে ভালো মানুষ আমার পছন্দ না। কারণ আমি মনে করি সাধারণরা যাদের ভালো মানুষ বলে তারা আসলে ভন্ড মানুষ। আমি খারাপ মানুষ পছন্দ করি।

আপনার বিশেষ কোন স্মৃতি মনে পড়েযা এখনও আপনাকে নাড়া দেয়?

আমার শৈশবের স্মৃতি। আমার নানা বাড়ি ভাটি অঞ্চলে। আম্মা আমাদের তিন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরলেন। যাবেন তিনি তার বাবার বাড়ি। হবিগঞ্জের বগলা বাজার ঘাট থেকে আমরা একটা গয়নায় উঠি। তখন ছিলো বর্ষাকাল। মাঝ নদীতে হঠাৎ গয়নার সকল যাত্রী কান্না জুড়ে দিলো। মা আমাদের তিন ভাইকে মুরগির বাচ্চার মত তার ডানায় লুকাতে চেষ্টা করলেন। পরে বুঝতে পারলাম গয়নার পাটাতন ভেঙে পানি উঠা শুরু করেছে। অনেক কষ্টে গয়নাটা নদীর পাড়ে ভিরানো হয়। সে যাত্রায় বেঁচে গেলাম আমরা। যদিও তখন মৃত্যু ভয় কাজ করছিলো না আমার ভেতর। আমার কষ্ট হচ্ছিলো মায়ের কান্না আর আমাদের বাঁচানোর আকুতি দেখে।

আপনার প্রতি,আপনার মায়ের প্রতি, আপনার পরিবারের প্রতি এবং আপনার সাহসী সত্যপ্রিতির প্রতি রইলো শুভেচ্ছা এবং শুভ কামনা। মনে প্রাণে যতটুকু আনন্দ পেলে একজন মানুষ সারাক্ষন ফুর্তিতে থাকতে পারে আপনি ততোটুকুর চেয়ে অনেক অনেক বেশি যেন পান bdtimes24.com এর পক্ষ থেকে সেই প্রার্থণা রইল।

Facebook Comments
Spread the love
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share