স্বপ্ন দেখার মানুষ-কামরুজ্জামান কামু

কামরুজ্জামান কামু। জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯৭১ সাল। শৈশবে রংপুরের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন তিনি। আর এখানেই শৈশবের বেশ কিছু কাল কাটে তার। ছোট বেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্যের সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

গ্রাজুয়েশন করেন রংপুর কার মাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। তিনি একাধারে একজন সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ত্ব, কবি, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক।

কবি ও নির্মাতা কামরুজ্জামান কামুর প্রথম চলচ্চিত্র ‘দি ডিরেক্টর’ সেন্সর বোর্ড আটকে দেয় গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি। তারই পরিপেক্ষিতে কিছুদিন আগে চলচ্চিত্র প্রেমীরা রাজপথে নেমে আসে ছবিটি মুক্তির জন্য।

সম্প্রতি BDtimes24.com -কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি তার সাবলিল অভিব্যক্তি দিয়ে নিজের অনেক না বলা কথা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।

দি ডিরেক্টর আপনার প্রথম ছবি?
-হ্যাঁ, প্রথম পূর্নদৈর্ঘ্য বাংলা ছবি।

আপনি তো একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ছাড়াও একজন কবি? আপনার করা কাজ গুলো সম্পর্কে আমাদের কে কিছু বলুন।

-ঠিক কাজ বলা উচিৎ হবে না কাজ সেইটাই, যার অর্থমূল্য আছে।

আমি যা কিছু করছি তার অর্থমূল্য নাই।
আপনার ছবি দি ডিরেক্টর সম্পর্কে কিছু বলুন?

– মানুষের স্বাধীনতা দরকার মানুষের আরও মুক্তি প্রয়োজন।

তারেক মাসুদের মাটির ময়নাও সেন্সর বোর্ড আটকে দিয়েছিল যেটা কিনা কান চলচ্চিত্র উৎসবে অসামান্য সাফল্য পেয়েছে… ।

তাহলে আপনি কি মনে করেন এটা আমাদের সেন্সর বোর্ডের ব্যর্থতা?
-হ্যাঁ, তাই মনে করি।

তারা এখনও সাবালক হয় নাই।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ছবি গুলো নির্মিত হয়েছিল তখন সেন্সর বোর্ড থাকলে আমাদের কি হত বলে আপনি মনে করেন?

-পশ্চিম পাকিরা শোষন করত তাহলে তো আটকে দিত।

আমরা হলে ছেড়ে দিতাম।

তাহলে তো স্বাধীনতার উপর প্রভাব পড়ত তাই না?
– হ্যাঁ পড়তে পারতো। আপনি যুক্তি চাইলে দেওয়ার চেষ্টা করব।

আপনার ছবি আটকে দেয়া পেছনে যে যুক্তি দেয়া হয়েছে সেটা নিয়ে আপনার মন্তব্য করে জানাবেন?
-আমার ছবিটা তারা বোঝে নাই

অথবা, ভাল করে দেখে নাই।

আমার ছবিতে ডিরেক্টরদের হেয় নয়, বরং মহৎ করা হয়েছে।

এই ছবি নিয়ে যে মানব বন্ধন হল সেটার পর কি সেন্সর বোর্ডের টনক নড়েছে?

-নড়ছে বলে মনে হয়।

কিন্তু ঠুঙ্কো ইগোর কারনে তারা ছবিতা আটকিয়ে রাখছে।

আপনি ও আপনার শুভাকাঙ্খীরা এর পরে কি উদ্যোগ নেবেন বলে চিন্তা করছেন?
-সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে এবং ছবিটা বিদেশে বিভিন্ন ফেস্টিভালে পাঠানো হবে।

সাব-টাইটেলের কাজ চলছে ।

এই দেশের সিনেমা ঘর গুলোতে ভারতীয় ছবি চলছে এর ক্ষতিকর দিক আছে কি?

-বড় ইন্ডাস্ট্রির ছবি দেশে ঢুকলে ক্ষতি আছে।

আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ছবি দাঁড়াতে পারবে না। মার খেয়ে যাবে। বড় পুঁজি ছোট পুঁজিকে গ্রাস করে ফেলবে।

 ডিজিটাল ছবি বাংলাদেশের সিনেমা জগতের জন্যে কি আশির্বাদ?

-হ্যাঁ, ডিজিটালকে ছেড়ে দিলে ভাল। আর যদি আটকে রাখা হয়, তাহলে কোনো লাভ নাই।

আপনার দি ডিরেক্টরও কি ডিজিটাল ছিল?

-হ্যাঁ,ডিজিটাল ম্যুভি।

শুরুর হিসাব করলে এটাই প্রথম ডিজিটাল একটা ছবি একজন নির্মাতার স্বপ্ন।

আপনার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলে পরে কি করবেন?

নতুন স্বপ্ন দেখার চেষ্টা তো অবশ্যই। আরও চার গুণ কল্পনাশক্তি দিয়ে স্বপ্ন দেখব।  আপনি যাকে বাধা দিবেন, সে আরও শক্তিশালী হবে।

এমন একটি ইচ্ছের কথা বলুন যেটা শতবার পূরণ হলেও থেকে যাবে?

-প্রেমের বাসনা।

বাংলা ছবির দর্শকদের জন্যে এবং আপনার ‘দি ডিরেক্টর’ ছবি প্রসঙ্গে কিছু বলুন?

-বেশি করে বাংলা ছবি দেখুন আর আমার ছবিটি মুক্তির জন্য আন্দোলন করুন। আমি মনে করি এই আন্দোলনই বাংলা সিনেমার মুক্তিকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে।

আপনার সুস্বাস্থ্য এবং সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করছি। আশারাখি শিগগিরই আপনার দি ডিরেক্টর ম্যুভিটি রিলিজ হবে। আপনার অব্যাক্ত ক্ষোভ দূর হবে/  আমাদের পাঠকদের জন্য আপনার মুল্যবান সময় দেয়ার জন্য  BDtimes24.com -এর পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Facebook Comments
Spread the love
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share