অজগরের সঙ্গে সেলফি

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে একটি আজগর। আর এই অজগরের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়েই ঘটে যত বিপত্তি। বিশাল অজগর গলায় রেখে কেরামতি দেখাতে গিয়েই নিজের প্রাণটাই  যাচ্ছিল। পরে অবশ্য কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে যান সঞ্জয় দত্ত নামে এক বন কর্মকর্তা। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জে।ভারতের শীর্ষস্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল রোববার ঘটনাটি ঘটে বেলাকোবা সাহেববাড়ি এলাকায়। ওই এলাকায় লম্বায় প্রায় ৩০ ফিট এবং ওজনে ৪০ কিলোগ্রামের একটি অজগর খাবারের খোঁজে ঢুকে পড়ে। লোকালয়ে ঢুকেই অজগরটি একটি ছাগল সাবাড় করে। আর তার পরই সেটিকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় অজগরটিকে। পরে খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে।

খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে সাপটিকে উদ্ধার করেন রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত। উদ্ধারের পরে গ্রামবাসীদের আব্দার মেটাতে অজগর ঘাড়ে নিয়ে সেলফি তুলতে গিয়েছিলেন তিনি। সেসময় সঞ্জয়ের গলা পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে অজগরটি। পরে গ্রামববাসীদের সহযোগিতায় অনেক কষ্টে গলা থেকে সাপ নামিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন সঞ্জয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাপটিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের আব্দার রাখতেই সাপটিকে ঘাড়ে তুলে নেন রেঞ্জ অফিসার। কিছু বুঝে ওঠার আগে শিকার ধরার কৌশলে রেঞ্জ অফিসারের গলা পেঁচিয়ে ধরে অজগরটি। কিছুটা নিজের চেষ্টা, সেই সঙ্গে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় পরে বিপদমুক্ত হন সঞ্জয়।এ ব্যাপারে সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘এর আগে একাধিক অজগর উদ্ধার করলেও এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। এই সাপটি যত, বড় তাতে প্রমাণ চেহারার ছাগল শুধু নয়, ছোট বাচ্চাদের সামনে পেলে ঘায়েল করার ক্ষমতা রাখে।’বনকর্তা আরও বলেন, করোলা নদীতে ভেসেই লোকালয়ে চলে আসে অজগরটি। বিশালকার সাপটি ইন্ডিয়ান রক পাইথন প্রজাতির।বনকর্তাদের ধারণা, বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল থেকে করলা নদী ধরে গ্রামে ঢুকেছিল অজগরটি। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আজ সোমবার রাতে সাপটিকে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।রাজ্যের বন্যপ্রাণ শাখার প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা বলেন, ‘এটা একেবারেই অনুচিত কাজ হয়েছে। খোদ বনাধিকারিক যদি এমন কাণ্ড ঘটান তবে সাধারণ মানুষকে কী জবাব দেব আমরা?’বিষয়টি নিয়ে বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, ‘এই অফিসার প্রতিটি ব্যাপারে অতি উৎসাহী। কাজের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। তা না হলে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবেন উনি।’

Facebook Comments
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •