চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমকে মুক্তি দেবার আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন ৪০০ ভারতীয় শিল্পী

আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন চিত্রশিল্পী শহিদুল আলমকে মুক্তি দেবার অনুরোধ জানিয়ে এক পিটিশনে ৪০০ ভারতীয় শিল্পী স্বাক্ষর করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির খ্যাতনামা সব চিত্রগ্রাহক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অভিনয় শিল্পী। এই পিটিশনে গত রোববার ৫ই আগস্ট ৫৭ ধারায় গ্রেফতারকৃত চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমকে অবিলম্বে অনুরোধ জানানো হয়।

সরকারের অভিযোগ, শহিদুল হক তার সামাজিক গণমাধ্যমে ছবি সম্বলিত পোস্ট এবং ভিডিও শেয়ার করে দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছেন। এই কারণে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় তাকে গ্রেফতার করে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ।

উল্লেখ্য, এর আগের দিনেই কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দেন শহিদুল আলম। সেখানে তিনি জানান। একজন চিত্রশিল্পী তিনি একনিষ্ঠভাবে এই আন্দোলনের ওপর নজর রেখেছেন। ‘সরকারের লুটপাট, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য গুম,খুনের সংস্কৃতি এই আন্দোলনের অন্যতম কারণ’, এমনটাই আল জাজিরাকে জানান শহিদুল আলম। এসময় তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের তীব্র সমালোচনাও করেন।

জনাব আলম বলেন, আমি দেখেছি কিভাবে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর ধারালো অস্ত্র এবং লোহার রড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা। আর পুলিশ এসব কিছু দেখেও না দেখার ভান করেছে। অথবা তাদের সহযোগিতা করেছে।

শহিদুল আলমের এমন মন্তব্যের পরই তাকে নিজ বাসগৃহ থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার পর পুলিশ গত মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে। আদালত রাষ্ট্রদ্রোহি চক্রান্ত তদন্তে শহিদুল আলমের দশ দিনের রিম্যান্ড মঞ্জুর করেন। আল জাজিরা প্রতিনিধি তানভীর চৌধুরী জানান, আদালতে তাকে অত্যন্ত দুর্বল দেখাচ্ছিলো। এসময় তিনি খালি পায়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটছিলেন। নিশ্চিতভাবেই পুলিশি হেফাজতে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।

এদিকে আদালতে দেয়া তার জবানবন্দিতে শহিদুল আলম জানান, পুলিশি হেফাজতে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি তার শরীর থেকেও রক্ত ঝরেছে। আদালতে হাজিরার পূর্বে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অমানুষিক নিষ্ঠুরতা দেখায়। জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের সময় তারা শহিদুল আলমকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রগ্রাহক হওয়ায় জনাব শহিদুলকে কটূক্তি করে।

এদিকে জনাব শহিদুল হকের গ্রেফতারের পর এক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম রিপোর্টে দ্য হিন্দু জানায়, তাকে গ্রেফতারে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা অবলম্বন পুলিশ। এসময় তারা আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় টেপ লাগিয়ে দেয়। এবং ঘটনাস্থলের আশেপাশে সব ধরণের ছবি তোলা বন্ধ করে দেয়।

এদিকে নিম্ন আদালতে শহিদুল আল্মের জামিন মঞ্জুরের প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হাই কোর্ট। বিচারক সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীরের অধীনে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ অবিলম্বে জনাব আলমকে বিএসএমএমইউ’তে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। হাইপার অ্যালার্জিক ডট কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

Facebook Comments
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •