শুভশ্রীকে প্রণাম ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজ!

রাজ-শুভশ্রীর রাজকীয় বিয়ে-বউভাত-ফুলশয্যা পর্ব শেষ। এক সপ্তাহব্যাপী সমারোহের সমাপ্তি। এই বিয়ের প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলার মানুষ। কিন্তু এই অনুষ্ঠানের একটি ছোট্ট ঘটনা খুব তাৎপর্যপূর্ণ। খুব সামান্য একটি ঘটনা কিন্তু যে প্রজন্ম নারী-স্বাধীনতা ও নারীর সমান অধিকার নিয়ে সরব, তাদের কাছে বিষয়টা একেবারেই সামান্য নয়।

বাঙালি বিয়ের সব রকম রীতি ও স্ত্রী-আচার অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে এই বিয়েতে। বউভাতের দিন সকালে, ভাত-কাপড়ের দায়িত্ব ঘোষণার সময় প্রচলিত নিয়ম, স্বামীকে প্রণাম করবেন স্ত্রী। এই দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টির মধ্যেও যে পুরুষতান্ত্রিক ঔদ্ধত্য রয়েছে, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু স্ত্রীআচার বলে অনেকেই এই প্রথাটিকে রোম্যান্টিকতায় মুড়ে মানিয়ে নেন।

সেই দিক থেকে দেখতে গেলে, ওই দায়িত্ব ঘোষণার সময় স্ত্রীর তাঁর স্বামীকে প্রণাম করার মধ্যেও এক ধরনের রোম্যান্টিকতা কাজ করে। তবে ইদানীংকালে সব নববধূই যে প্রণাম করেন এমনটা ঠিক নয়। সবটাই পরিস্থিতি-পরিজনদের উপরে নির্ভর করে। চাইলে নবদম্পতি না মানতেই পারেন। কিন্তু শুভশ্রী মেনেছেন। কোনও বাধ্যতার জায়গা থেকে নয়, খুব আনন্দের সঙ্গেই মেনেছেন।

প্রথমে কিছুতেই প্রণাম নিতে চাননি রাজ, কিন্তু শেষমেশ সমবেত অনুরোধে এবং শুভশ্রীর স্বতঃস্ফূর্ততার কাছে খানিকটা হার মেনেছেন বলা যায়। ছোট্ট ঘটনাটি ঠিক তার পরেই এবং সেটি হয়তো বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অপ্রত্যাশিত। শুভশ্রী প্রণাম করার সঙ্গে সঙ্গেই শুভশ্রীকে প্রণাম ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজ! রীতি ভেঙেছেন এক দিক থেকে দেখতে হলে, কারণ এমনটা তো আর প্রচলিত বিধানে নেই!

প্রিয় মানবীর সামনে হাঁটু মুড়ে বসতে পারেন অনেকেই। কিন্তু ক’জন স্বামী বা প্রেমিক পারেন প্রিয় মানবীর পায়ে হাত ছুঁয়ে প্রণাম করতে? তাও সর্বসমক্ষে, এমনকী পরিবারের গুরুজনদের সামনে? কিন্তু ওই মুহূর্তে প্রিয় মানবীকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু ফিরিয়ে দিতে একটুও দ্বিধা বোধ করেননি রাজ! আর এই ছোট্ট জেশ্চারে তথাকথিত বহু ইন্টালেকচুয়ালদের থেকে অনেক অনেক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন তিনি।

 

 

Facebook Comments
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •