বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হতে পারলে সচিবালয়ের ন্যায় উচ্চমান সহকারীও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে পারবে

রবিবার বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ শিক্ষা ভবন ঢাকায় সংগঠনের আওতাধীন সরকারী বিভিন্ন দপ্তর অধিদপ্তরে কর্মরত প্রধান সহকারী/উচ্চমান সহকারী/সহকারীসহ সমপদ ও উক্ত পদের ফিডার পদধারীদের উপস্থিতিতে সচিবালয়ের ন্যায় পদবী পরিবর্তন করে “প্রশাসনিক কর্মকর্তা” পদে উন্নীতকরণের দাবীতে সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি কে এম বদিউজ্জামান এর সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব জনাব আবু নাসির খান বলেন বৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে ৩০ লক্ষ প্রাণ আর দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হলেও দেশ হতে পাকিস্তানের মত বৈষম্য দূর হয়নি। একই পদবী, বেতন স্কেল, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের পরিধি নিয়ে সচিবালয়ের ভিতরে ও বাহিরে প্রধান সহকারী ও উচ্চমান সহকারী পদের সৃষ্টি হলেও ১৩/০৯/১৯৯৫ তারিখে তৎকালীন সরকার বৈষম্য বাদের ধারক হিসেবে সচিবালয়ের ভিতরে কর্মরত উচ্চমান সহকারী ও প্রধান সহকারীগণকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে উন্নীত করে। তার ধারাবাহিকতায় পিএসসি, হাইকোর্ট ও বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরীকমিশনের বর্নিত পদগুলোকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে উন্নীত করা হয়। কিন্তু সচিবালয়, পিএসসি, হাইকোর্ট ও বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বাহিরে অন্যান্য দপ্তরের নিয়োগ বিধি বেতন স্কেল কর্মপরিধি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা এক হলেও অন্যান্য দপ্তরের বর্ণিত পদের কর্মচারীগণ পদবী পরিবর্তন থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে একই যোগ্যতায় পদবী ও বেতন বৈষম্যের সৃষ্টি হয়।

এতে সচিবালয়ের বাহিরে কর্মরত বিভিন্ন দপ্তর/অধিদপ্তরে কর্মরত প্রধান সহকারী/উচ্চমান সহকারী/সহকারীদের মধ্যে সচিবালয়ের ন্যায় পদবী পরিবর্তনের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বহু আবেদন নিবেদন করে, সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্বেও তারা কোন ফলাফল পায়নি। এতে স্বাধীনতা বিরুধী কোন অপশক্তির হাত রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন এটা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রধান সহকারী/উচ্চমান সহকারী/সহকারীগণ সরকারের মূল চালিকা শক্তি এবং উন্নয়নের অংশীদার। তাদেরকে অবজ্ঞা করে বা বঞ্চিত করে সোনার বাংলা রূপান্তর অসম্ভব বলে দাবী করে অনতিবিলম্বে বৈষম্যের অবসান করে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ন্যায় সচিবালয়ের বাহিরে কর্মরত প্রধান সহকারী/উচ্চমান সহকারী/সহকারী ও সমপদগুলোকে পদবী ও গ্রেড পরিবর্তন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বাস্তবায়নের জোড় দাবী জানান।
তিনি আরও বলেন এব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা, মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে উত্থাপনসহ ডিও লেটার প্রদান এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সভার সিদ্ধান্তসহ একাধিক মন্ত্রী ও এমপি মহোদয়গনের এবিষয়ে সুপারিশসহ ডিও রয়েছে। বক্তারা আরো বলেন তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য্য ধরেছেন এবার আন্দোলনের মাধ্যমে বৈষম্য নিরসন করতে বাধ্য করা হবে, গত ০৩/০৯/২০১৮ তারিখে এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় মিটিং করলেও অদ্যাবধি সিদ্ধান্ত না নেয়ায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মমিনুর রশীদ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোঃ বেলাল হোসেন মোঃ শাহাদত হোসেন, মোঃ আব্দুল হালিম, শফিকুল ইসলাম খান, জিয়াউল সাদেক, নুরুজ্জামান হাওলাদার, মোঃ আব্দুল হাকিম, লুৎফর রহমান আকন্দ, রাজউক ও বিআরটিএ দপ্তরের প্রমূখ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

Facebook Comments
Spread the love
  • 273
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    273
    Shares