আর্জেন্টিনার ‘ভালদানো’ হতে গিয়ে ব্রাজিলের ‘জোসিমার’ হয়ে ওঠার গল্প ভোজিনহার
কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা এখন বিশ্ব ফুটবলের আলোচিত নাম। স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে ঐতিহাসিক ড্র এনে দিয়ে তিনি রাতারাতি কোটি ভক্তের নজর কেড়েছেন। তবে তার ফুটবল সাফল্যের বাইরেও রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নামের গল্প, যেখানে জড়িয়ে আছে ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।
বর্তমানে সবার কাছে ‘ভোজিনহা’ নামে পরিচিত এই গোলরক্ষকের আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার নামের পেছনের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে।
সেই আসরে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার Jorge Valdano-এর খেলায় মুগ্ধ হয়ে ভোজিনহার বাবা নিজের সন্তানের নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘ভালদানো’। কিন্তু কেপ ভার্দের তৎকালীন আইন অনুযায়ী বিদেশি নাম নিবন্ধনের অনুমতি না থাকায় রেজিস্ট্রি অফিস সেই নাম বাতিল করে দেয়।
এরপর বাধ্য হয়ে তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার Josimar-এর নাম অনুসারে সন্তানের নাম রাখেন ‘জোসিমার’। একই বিশ্বকাপে পোল্যান্ড ও নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে আলোচনায় এসেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
শৈশবের আরেকটি মজার গল্পও রয়েছে তার ডাকনাম নিয়ে। দাদা-দাদির কাছে বড় হওয়া ভোজিনহা ছোটবেলায় পাড়ার বড়দের সঙ্গে খেলতে গিয়ে প্রায়ই মার খেয়ে দাদির কাছে অভিযোগ করতেন। সেখান থেকেই বন্ধুরা মজা করে তাকে ‘ভোজিনহা’ বলে ডাকতে শুরু করে, যা পরে তার স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়।
স্পেনের বিপক্ষে স্মরণীয় ম্যাচের পর ভোজিনহা সেই অর্জন উৎসর্গ করেছেন তার প্রয়াত দাদা-দাদির স্মৃতিতে। আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তার পরিবার আজ বেঁচে থাকলে এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি গর্বিত হতো।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারী সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ হাজার। তবে স্পেনকে রুখে দেওয়ার পর এখন তিনি লাখো ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। বিশেষ করে ব্রাজিলের সমর্থকরাও এখন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষককে নিজেদের একজন হিসেবেই দেখছেন।
What's Your Reaction?