‘আ.লীগ সরকারের আমলে শিক্ষানীতিতে ব্যাপক অবনতি হয়েছে’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে জাতীয় শিক্ষানীতিতে উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। তিনি মনে করেন, ১৯৭২ সালে প্রণীত ড. কুদরত-এ-খোদার শিক্ষানীতি বর্তমান বাস্তবতায় দেশের জন্য যথেষ্ট নয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘গুণগত শিক্ষা উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী শিক্ষানীতির কারণে আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে দেশের জনশক্তি প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার অভাবই এর অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো জরুরি। শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে ধরে রাখতে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে—কারিকুলাম, শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষাসামগ্রীর মান। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে হবে এবং ভালো কাজের জন্য শিক্ষকদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তিনি বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করা উচিত। পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলে শিক্ষাব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে মত দেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়এর শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম এবং রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।
What's Your Reaction?