ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-র জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা Mohsen Rezaei বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই এখন তারা আলোচনার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি চলমান আলোচনা নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী না হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে অংশ নিচ্ছে। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্প্রতি স্বাক্ষরিত তেহরান-ওয়াশিংটন সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা।
সাবেক Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) প্রধান রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শক্তি ও চাপ প্রয়োগের কৌশলের মাধ্যমে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় এখন তারা আলোচনায় ফিরেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষ এরই মধ্যে বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা সবসময় নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা জরুরি। অতিরিক্ত আশাবাদকে শত্রুপক্ষ নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ভার্চুয়ালি একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। ১৪ দফার ওই চুক্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সহায়তায় সম্পাদিত এই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং Strait of Hormuz-এ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির আওতায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তেল রপ্তানিতে ছাড়, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তেহরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে, এসব বিষয়ে পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত আলোচনা হবে।