ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি চাইলেন ব্যবসায়ীরা
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের মার্কেট ও বিপণিবিতান রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১০ মে থেকে এই সময়সূচি কার্যকর করার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া বর্তমান ব্যবসায়িক মন্দা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ অধিদপ্তরে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সমিতির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে দেশের মার্কেট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এ সময়সীমার কারণে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, ফলে তারা আর্থিক চাপ ও অসন্তোষের মধ্যে রয়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ঈদের আগে দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় চলমান অপরিকল্পিত বাণিজ্য মেলা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু বরিশালসহ কিছু এলাকায় এখনো মেলা চলায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সমিতির নেতারা জানান, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাধারণত কেনাকাটা বৃদ্ধি পায়। তাই দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানো হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আগামী ১০ মে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, ঈদের পর টানা সাত দিন দেশের সব মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখা হবে।
What's Your Reaction?