উদ্ধার অভিযানে কেন নিজেদের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র

Apr 6, 2026 - 19:23
 0  10
উদ্ধার অভিযানে কেন নিজেদের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে ভূপাতিত একটি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দুই মার্কিন ক্রুকে উদ্ধারের সময় পরিচালিত উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদেরই একাধিক উন্নতমানের বিমান ধ্বংস করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে, দ্বিতীয় ক্রু সদস্য—একজন কর্নেল—কে উদ্ধারের জন্য ইরানের মরুভূমিতে অস্থায়ী রানওয়ে তৈরি করে সেখানে বিশেষ পরিবহন বিমান অবতরণ করানো হয়। তবে অবতরণের পর যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা নরম মাটিতে আটকে পড়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।

এ সময় ইরানি বাহিনী অভিযানের এলাকা ঘিরে ফেলতে শুরু করলে উদ্ধার কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত বিমান মোতায়েন করে এবং দ্রুত ক্রু উদ্ধারে মনোযোগ দেয়।

বার্তা সংস্থা এপির বরাতে জানা যায়, অভিযানের শেষে যেসব বিমান ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়েছিল, সেগুলো যাতে শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে, সে কারণে মার্কিন বাহিনী নিজস্ব বিমানেই হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দেয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে লকহিড মার্টিনের সি-১৩০ সিরিজের, বিশেষ করে এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু মডেলের বিমান থাকতে পারে।

প্রতিটি এ ধরনের বিমানের মূল্য ১০ কোটি ডলারের বেশি এবং এগুলো সাধারণত শত্রু অঞ্চলে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। ধ্বংসাবশেষে একটি বিশেষ ধরনের হেলিকপ্টারের অংশও দেখা গেছে, যা অভিযানে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা শত্রুপক্ষের উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শত্রু এলাকায় পরিচালিত এমন সংবেদনশীল অভিযানে উন্নত প্রযুক্তি ও গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনে নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা একটি প্রচলিত কৌশল। অতীতেও এ ধরনের ঘটনার নজির রয়েছে।

এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ আহত ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে একাধিক বিমান ব্যবহার করে ওই সেনাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়।

এই ঘটনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow