ঘুমের মধ্যেই কমতে পারে মেদ, জেনে নিন কার্যকর কিছু উপায়
জন কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, ডায়েট কিংবা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কথা সবাই জানেন। তবে অনেকেই জানেন না, সঠিক ঘুমও মেদ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়তা করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Hindustan Times–এর এক প্রতিবেদনে ঘুম ও ওজন কমানোর সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
কম ঘুমে বাড়তে পারে ওজন
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার কম ঘুম হলে স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রায় তিন লাখ মানুষের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ৭ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশের ওবেসিটির ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তাই শরীরের মেদ কমাতে পর্যাপ্ত ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘুম কম হলে বাড়ে ক্ষুধা
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ফলে ঘন ঘন খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, বিশেষ করে মিষ্টি বা উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এতে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা কমাতে সহায়তা করে।
ভালো ঘুম বাড়ায় কর্মশক্তি
ভালো ঘুম হলে শরীর সতেজ থাকে এবং সকালে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করার শক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সহজ হয়। রাত জেগে থাকলে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর বা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন, যা ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ।
তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস জরুরি
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের খাবার দ্রুত খেয়ে কিছুক্ষণ হাঁটার পর ঘুমাতে গেলে তা ওজন কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস থাকলে বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এতে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে।
নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
শুধু একদিন বেশি ঘুমালেই হবে না, বরং পুরো সপ্তাহজুড়ে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কেউ যদি সপ্তাহে পাঁচ দিন মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান এবং বাকি দুই দিন বেশি সময় ঘুমিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন, তাহলে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বয়স, উচ্চতা, লিঙ্গ ও পেশিশক্তির ওপরও ঘুমের মাধ্যমে ওজন কমার বিষয়টি নির্ভর করে।
রাতের খাবারে রাখতে হবে সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত। পাশাপাশি রাতের খাবার হালকা রাখলে শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমার ঝুঁকি কমে যায়। এতে হজমও ভালো হয় এবং ঘুমের মান উন্নত হয়।
What's Your Reaction?