টাকায় লুকিয়ে থাকে হাজারো জীবাণু, সুস্থ থাকতে যা করবেন

May 12, 2026 - 18:05
 0  17
টাকায় লুকিয়ে থাকে হাজারো জীবাণু, সুস্থ থাকতে যা করবেন

দৈনন্দিন জীবনে টাকা ছাড়া এক মুহূর্তও চলা কঠিন। বাজার করা, যাতায়াত, খাবার কেনা কিংবা ছোটখাটো কেনাকাটা—সব ক্ষেত্রেই কাগজের নোট ও মুদ্রার ব্যবহার রয়েছে। তবে অনেকেই জানেন না, প্রতিদিন হাতে নেওয়া এই টাকাই হতে পারে নানা ধরনের রোগজীবাণুর বাহক।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত কাগজের নোট ও ধাতব মুদ্রায় বিপুল পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের উপস্থিতি থাকে। একাধিক হাত ঘুরে বছরের পর বছর ব্যবহৃত হওয়ার কারণে টাকার ওপর জমে থাকে অসংখ্য অণুজীব, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কেন টাকায় বেশি জীবাণু জমে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকা খুব দ্রুত ও ঘন ঘন হাতবদল হয়। বাজার, হাসপাতাল, গণপরিবহন, দোকান বা রাস্তার লেনদেন—সব জায়গাতেই একই নোট বিভিন্ন মানুষের স্পর্শে আসে। কাগজের নোটের ভেতরের তন্তু সহজেই ঘাম, ধুলাবালি ও আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়, যা জীবাণু বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

অন্যদিকে, আমরা নিয়মিত মোবাইল, পোশাক বা বাসাবাড়ি পরিষ্কার করলেও টাকার নোট সাধারণত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এতে জীবাণুর স্তর জমতে থাকে।

টাকায় কী ধরনের জীবাণু থাকতে পারে?

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি কাগজের নোটে প্রায় তিন হাজার ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—

  • ই-কোলাই (E. coli): ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা ও মূত্রনালির সংক্রমণের জন্য দায়ী।
  • স্ট্যাফাইলোকক্কাস: ত্বক, ফুসফুস, হাড় এমনকি মস্তিষ্কেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
  • ভাইরাস ও ছত্রাক: সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ বিভিন্ন ভাইরাস কয়েক দিন পর্যন্ত টাকার গায়ে সক্রিয় থাকতে পারে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস

আমাদের দেশে টাকা গোনার সময় আঙুলে থুতু লাগানোর প্রবণতা এখনও অনেকের মধ্যে দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। কারণ এতে টাকার গায়ে থাকা জীবাণু সরাসরি শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। একই সঙ্গে একজনের লালার জীবাণুও অন্যের কাছে ছড়িয়ে যেতে পারে।

সুস্থ থাকতে যেসব সতর্কতা জরুরি

টাকার মাধ্যমে জীবাণুর সংক্রমণ এড়াতে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

নিয়মিত হাত পরিষ্কার করুন: টাকা ধরার পর খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

ডিজিটাল লেনদেন বাড়ান: মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড বা অনলাইন পেমেন্ট ব্যবহারে শারীরিক নোটের সংস্পর্শ কমে যায়, ফলে জীবাণুর ঝুঁকিও হ্রাস পায়।

শিশুদের সতর্ক রাখুন: অনেক শিশু খেলার ছলে টাকা মুখে দেয়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই ছোটদের এ বিষয়ে সচেতন করা জরুরি।

মানিব্যাগ পরিষ্কার রাখুন: নিয়মিত পার্স বা মানিব্যাগ পরিষ্কার করুন। বিশেষজ্ঞরা টাকার সঙ্গে টিস্যু বা রুমাল না রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সামান্য সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসই আপনাকে নানা ধরনের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: প্লাস ওয়ান, মিশিগান ইউনিভার্সিটি নিউজলেটার, ওয়েবএমডি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow