ট্রাম্পের চীন সফরের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে টালমাটাল যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠককে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে পতন দেখা গেছে। টানা তিন দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বুধবার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বাজারের তথ্যমতে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ৫৫ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের মূল্য ১ দশমিক ১৬ ডলার কমে ১০১ দশমিক ২ ডলারে নেমে এসেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে শুরু করে। পরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়। এর জেরে দীর্ঘ সময় ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো বাজারকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। সামান্য কোনো ঘটনাও তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা তৈরি করছে।
এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল হওয়ার সম্ভাবনাও দুর্বল হয়ে যায়।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে তার চীনের সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, স্থায়ী শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা এখনো খুব শক্তিশালী নয়।
বর্তমানে চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ জানিয়েছে, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন এবং উৎপাদন হ্রাস অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের বাকি সময়েও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দ্রুত সুদের হার কমানোর পথে হাঁটবে না।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
What's Your Reaction?