ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সত্ত্বেও তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে না এক্সনমোবিল ও শেভরন

May 2, 2026 - 17:17
 0  12
ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সত্ত্বেও তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে না এক্সনমোবিল ও শেভরন

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় হোয়াইট হাউস যখন তেল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, তখন সেই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না এক্সনমোবিল ও শেভরন। দুই প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, সরকারি চাপের কারণে তারা উৎপাদন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনছে না।

এক্সনমোবিলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নীল হ্যানসেন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, পারমিয়ান বেসিনকে ঘিরে কোম্পানির দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বহাল রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এতে কোনো সংশোধন আনা হয়নি।

একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন শেভরনের অর্থ প্রধান ইমার বোনার। তিনি বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট তাদের বিদ্যমান পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলেনি।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বৈশ্বিক বাজারে চাপ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তেল পরিশোধন কার্যক্রমে। ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বেড়েছে।

সংকটের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও প্রতি গ্যালনে ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এতে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি জ্বালানির দাম ২ ডলারের নিচে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ছে সরকার

পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। পাশাপাশি দেশটির বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে এক্সনমোবিল ও শেভরন জানিয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোবে।

নীল হ্যানসেন বলেন, কোম্পানি ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন করে বড় পরিসরে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ নেই।

অন্যদিকে ইমার বোনার জানান, শেভরনের প্রধান লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং নগদ প্রবাহ বা ফ্রি ক্যাশ ফ্লো শক্তিশালী করা।

আর্থিক ফলাফলে মুনাফা কমেছে

প্রথম প্রান্তিকে এক্সনমোবিলের নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ কম। এর পেছনে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের হিসাবভিত্তিক লোকসান ভূমিকা রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক্সনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে। কোম্পানিটি আগেই সতর্ক করেছিল, চলমান সংকটে তাদের বৈশ্বিক উৎপাদন অন্তত ৬ শতাংশ কমে যেতে পারে।

এক্সনের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস বলেন, প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল প্রমাণ করে প্রতিষ্ঠানটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রতিকূল বাজারেও কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম।

এক্সনমোবিল আরও জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তারা শেয়ারপ্রতি ১ দশমিক ০৩ ডলার লভ্যাংশ দেবে।

শেভরনের আয়ও কমেছে

অন্যদিকে শেভরনের প্রথম প্রান্তিকের নিট আয় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কম। তাদের হিসাবেও ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের পেপার লস রয়েছে।

তবে উৎপাদনে কিছুটা অগ্রগতি দেখিয়েছে কোম্পানিটি। অধিগ্রহণ ও নতুন প্রকল্পের কারণে তাদের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল বেড়েছে।

রিফাইনারি চলছে পূর্ণ সক্ষমতায়

দুই প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, বর্তমান উচ্চমূল্যের সুযোগ কাজে লাগাতে তারা তাদের রিফাইনারিগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালনা করছে। সম্প্রতি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow