ট্রাম্প ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’: বলছেন মার্কিন রাজনীতিকেরা
What's Your Reaction?
Or register with email
Join our subscribers list to get the latest news, updates and special offers directly in your inbox
ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া কঠোর ও বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন দলের রাজনীতিকরা এখন তাঁর মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি জোর দাবি জানান। ওই পোস্টে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে সতর্ক করেন, প্রণালি দ্রুত চালু না করলে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
এতেই শেষ নয়, ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান চালানো হবে। এমনকি তাঁর পোস্টের ভাষা ও উপস্থাপনাও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
এ সংকট মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোর ওপরও চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং তারা সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলার অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে ন্যাটো জোট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প, এমনকি জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে না। নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনীতিতে বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। সাবেক সমর্থক ও বর্তমান সমালোচক মার্জোরি টেলর গ্রিন তাঁর মন্তব্যে ট্রাম্পের আচরণকে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রশাসনের ভেতরে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমারও তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য একজন ‘উন্মাদ ব্যক্তির প্রলাপের’ মতো শোনাচ্ছে। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি ট্রাম্পের আচরণকে ‘বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে অস্থিতিশীল’ বলে উল্লেখ করেন।
সিনেটর ক্রিস মারফি আরও একধাপ এগিয়ে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া—২৫তম সংশোধনী—নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে কংগ্রেসম্যান রো খান্না বলেন, একদিকে ট্রাম্প যুদ্ধাপরাধের মতো বক্তব্য দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
ডেমোক্রেটিক সিনেটর টিম কেইনও ট্রাম্পের ভাষাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্কসুলভ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ায় না, বরং বিদেশে থাকা মার্কিন সেনাদের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
admin Mar 17, 2026 0 225
admin Oct 8, 2025 0 181
admin Oct 8, 2025 0 112
admin Mar 17, 2026 0 28
admin Mar 28, 2026 0 20
admin Oct 8, 2025 0 181
admin Oct 8, 2025 0 112
admin Jul 27, 2025 0 61
admin Jul 27, 2025 0 63
admin Jul 27, 2025 0 64