তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল

Jun 11, 2026 - 17:13
 0  10
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে এই তহবিল ব্যবহার করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ তহবিল’ গঠন করা হচ্ছে। এ তহবিল থেকে নারী উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাতের অবদান প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, সারা দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সব বিমানবন্দর, সাতটি রেলস্টেশন এবং আন্তঃনগর ট্রেনে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে।

গত চার মাসে দেশে ৪১ লাখ নতুন ফোরজি মোবাইল সংযোগ এবং চার লাখ উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ যুক্ত হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ জনগণের কাছে ফাইভজি সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি শহর ও গ্রামাঞ্চলে ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) শক্তিশালী করার পাশাপাশি ‘এক নাগরিক, এক পরিচয়, এক ওয়ালেট’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে দেশি ও প্রবাসী প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে নীতিগত সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্মার্ট সিটি নির্মাণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধিতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং এআইভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow