দেশেই তৈরি হবে ডেঙ্গু ও হামের টিকা, কমবে অ্যান্টিভেনম সংকট
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, হাম ও জলাতঙ্কের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জনস্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আসবে এবং বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে।
ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এ সামাদ মৃধা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দ্রুত এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যেই সরকারের কাছে টিকা ও অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। উৎপাদন শুরু হলে বছরে ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা তৈরি করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে এসব টিকা বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে আমদানিকৃত দামের প্রায় অর্ধেক ব্যয়ে টিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সরকারের ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য টিকা সহজলভ্য হবে।
দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। চলতি বছরে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩২০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৪০ হাজারে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৪১৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুসারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে ইডিসিএল। পাশাপাশি দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন, যাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। অথচ দেশে এখনো অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের ব্যবস্থা নেই। এছাড়া জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকটও দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এসব সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আরও বড় পরিসরের গবেষণা ও উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলছে ইডিসিএল। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই প্রকল্পে ২০৩২ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পগুলো সফল হলে ওষুধ ও টিকা উৎপাদনে বাংলাদেশ নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করবে।
What's Your Reaction?