ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত মারিয়াস হোয়াইবি, চার বছরের কারাদণ্ড
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস Mette-Marit-এর ছেলে Marius Borg Høiby দুইটি ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা চারটি ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে আদালত দুটি অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছেন।
Oslo District Court-এর তিন বিচারকের বেঞ্চ বাকি দুইটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিলেও, অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। সব মিলিয়ে ২৯ বছর বয়সী হোয়াইবি ৩৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
মামলায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন, হুমকি প্রদান এবং মাদক-সংক্রান্ত মোট ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অসুস্থতার কারণে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন।
এই মামলা সরাসরি নরওয়ের রাজপরিবারকে জড়িত না করলেও, এটি রাজপরিবারের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। হোয়াইবি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের সদস্য নন এবং কোনো রাজকীয় দায়িত্বও পালন করেন না। তিনি ২০০১ সালে Haakon, Crown Prince of Norway-এর সঙ্গে মেটে-মারিতের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান।
রায়ের পর তার আইনজীবীরা অসুস্থ মায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ চেয়ে জামিন আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি রয়েছে এবং অতীতে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে।
মামলায় ছয়জন নারী জড়িত ছিলেন। আদালত দুইজনের ক্ষেত্রে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও, বাকি ঘটনাগুলোতে দোষী সাব্যস্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাগুম এস্টেট এবং ২০২৪ সালে Oslo-তে পৃথক ঘটনায় দুই নারী ধর্ষণের শিকার হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অনেক ভুক্তভোগী ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন বা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে হোয়াইবির মোবাইল ফোনে পাওয়া ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনাগুলোর প্রমাণ সামনে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নরওয়েতে ধর্ষণ মামলায় প্রমাণের মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় অনেক সময় ভুক্তভোগীদের জন্য বিচারপ্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে।
What's Your Reaction?