প্রস্রাবের ৬ পরিবর্তন হতে পারে ‘নীরব ক্যানসারের’ সতর্ক সংকেত
ব্যস্ত জীবনে শরীরের ছোটখাটো অসুবিধাগুলোকে অনেক সময় আমরা গুরুত্ব দিই না। প্রস্রাবে সামান্য জ্বালাপোড়া, রাতে বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়া কিংবা কোমরের নিচে হালকা ব্যথার মতো সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ বিষয় মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এসব উপসর্গ কখনো কখনো গুরুতর রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিতও হতে পারে। বিশেষ করে মূত্রনালি, মূত্রাশয়, কিডনি কিংবা প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে এমন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে ক্যানসার
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মূত্রতন্ত্রসংক্রান্ত কিছু ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় খুব কম উপসর্গ প্রকাশ করে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। তবে শুরুর পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা ও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।
যেসব ৬টি লক্ষণে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন
চিকিৎসকদের মতে, নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
প্রস্রাবে রক্তের উপস্থিতি:
প্রস্রাবের সঙ্গে একবারও রক্ত দেখা গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অনেক সময় এটি ব্যথাহীন হলেও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন:
বিশেষ করে রাতের বেলায় বারবার বাথরুমে যেতে হলে বিষয়টি নজরে রাখা দরকার।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া:
অনেকে এটিকে সাধারণ সংক্রমণ মনে করে এড়িয়ে যান। তবে দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা:
প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া অথবা প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
প্রস্রাবের পরও অসম্পূর্ণতার অনুভূতি:
প্রস্রাব শেষ হওয়ার পরও মনে হওয়া যে এখনও বাকি রয়েছে বা সারাক্ষণ প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হওয়া।
তলপেট ও পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা:
তলপেট বা কোমরের নিচের অংশে দীর্ঘ সময় ব্যথা থাকলেও তা গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দ্রুত শনাক্তকরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক মানুষ এসব সমস্যাকে বয়সজনিত বা সাময়িক ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। অথচ সময়মতো রোগ নির্ণয় করা গেলে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সার্জারি বা রেডিয়েশনের সাহায্যে সফল চিকিৎসা সম্ভব।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী এবং শিল্পকারখানার রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
সচেতনতা হতে পারে সুরক্ষার উপায়
প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে অনেকেই খোলামেলা কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এমন সংকোচ অনেক সময় রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব ঘটায়। শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
What's Your Reaction?