বাজেটের আগেই স্বর্ণের বাজারে বড় ধস, দুই দিনে ভরিতে কমল ১১ হাজার টাকার বেশি
জাতীয় বাজেট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে দেশের স্বর্ণবাজারে বড় ধরনের মূল্যহ্রাস দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করে বাজুস। সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম হবে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন অর্থাৎ ১০ জুনও স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিপ্রতি মূল্য ৬ হাজার ৫৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৭৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম মোট ১১ হাজার ২৩ টাকা কমেছে।
গতকালের মূল্যতালিকায় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকা।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৩ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩৬ বার হ্রাস করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বৃদ্ধি এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার ভরিপ্রতি মূল্য ৫৮ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করার কথা রয়েছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। বাজেটকে ঘিরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা দিয়েছে। কারণ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের বাজেটে স্বর্ণ খাতে কর কমানোর প্রস্তাব থাকতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার সুপারিশ থাকতে পারে। পাশাপাশি জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ধারণা, কর কাঠামোয় এ ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যহ্রাস এবং সম্ভাব্য কর সুবিধা—দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে স্বর্ণবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে বিয়ের মৌসুম এবং বিনিয়োগ—উভয় ক্ষেত্রেই স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য এটি স্বস্তিদায়ক খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
What's Your Reaction?