ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিখোঁজ অন্তত ৭০, বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার
ইউরোপগামী অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় লিবিয়ার উপকূলসংলগ্ন ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত নৌকাটিতে অন্তত ১০০ জন যাত্রী ছিলেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ছোট আকারের নৌকাটি শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর ছেড়ে যাত্রা শুরু করে।
পথিমধ্যে খারাপ আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে নৌকাটিতে পানি ঢুকতে থাকে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি ডুবে যায়।
জার্মানভিত্তিক উদ্ধার সংস্থা সি-ওয়াচ জানায়, তাদের একটি নজরদারি বিমান দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টে থাকা নৌকাটি শনাক্ত করে। তখন কিছু যাত্রীকে নৌকার অংশ ধরে থাকতে দেখা যায়, অনেকে পানিতে ভাসছিলেন এবং ঘটনাস্থলে মরদেহও দেখা গেছে।
উদ্ধার অভিযানে একটি ইতালীয় এবং একটি লাইবেরিয়ান বাণিজ্যিক জাহাজ অংশ নেয়। পরে জীবিতদের ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যা ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত।
উদ্ধার হওয়া ৩২ জনের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক রয়েছেন। একই সঙ্গে দুটি মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নৌকাটি এ ধরনের সমুদ্রযাত্রার জন্য মোটেই উপযুক্ত ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, এতে সর্বোচ্চ ১২০ জন পর্যন্ত যাত্রী থাকতে পারে। এ সংখ্যা নিশ্চিত হলে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অভিবাসী দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজার ৪৫০ জনের বেশি অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। চলতি বছরেই মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ৭২৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
উদ্ধার সংস্থাগুলোর মতে, ইউরোপে নিরাপদ ও বৈধ প্রবেশপথের অভাবই মানুষকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে বারবার প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।
What's Your Reaction?