রামিসার শূন্যতা মেনে নিতে পারছেন না বাবা, কান্নায় ভেঙে পড়ল সহপাঠীরাও
রাজধানীর পল্লবীতে নিহত শিশু রামিসা আক্তারকে দাফন করা হলেও মেয়ের না-ফেরার বাস্তবতা এখনো মেনে নিতে পারছেন না তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। মেয়ের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকায় ফিরে তিনি যান মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলে, যেখানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত রামিসা।
স্কুলে গিয়ে মেয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মাঝে যেন নিজের মেয়েকেই খুঁজছিলেন তিনি। শ্রেণিকক্ষে রামিসার অনুপস্থিতি এবং সহপাঠীদের মুখ দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি আবদুল হান্নান। একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার সেই হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে রামিসার সহপাঠীরাও। শিশুরা বাবাকে ঘিরে ধরে কান্নায় অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যার শিকার হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।
গত বুধবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজের পর রামিসার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিচারব্যবস্থা নিয়ে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লাকে। তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি তার আস্থা নেই বলেই তিনি মেয়ের হত্যার বিচার চান না।
তিনি বলেন, “আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।” তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ে আর ফিরে আসবে না। কিছুদিন আলোচনা হবে, এরপর নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে এটিও চাপা পড়ে যাবে।”
এ ঘটনায় রামিসা হত্যার মামলা দায়ের করেন তার বাবা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
একই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সোহেল তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে টুকরো করার প্রস্তুতির সময় রামিসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। ওই সময় সোহেল ও তার এক সহযোগী জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
What's Your Reaction?