রোনান সুলিভান: বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার উজ্জ্বল দিশা

Apr 4, 2026 - 13:01
 0  14
রোনান সুলিভান: বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার উজ্জ্বল দিশা

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালেও শিরোপা জিতে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। পুরো টুর্নামেন্টে দলীয় পারফরম্যান্সই ছিল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি, তবে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান।

১২ নম্বর জার্সি পরলেও মাঠে তাঁর ভূমিকা ছিল একজন প্রকৃত স্ট্রাইকারের মতো। পুরো আসরে ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনে খেলেই নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।

এই সাফল্যের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। যশোরের শামসুল হক একাডেমিতে ২৮ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রাথমিক ক্যাম্প চলে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ঘরোয়া প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ততার কারণে এক মাসের বিরতি পড়ে। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলায় ব্যস্ত ছিলেন।

১৬ মার্চ থেকে আবার ক্যাম্প শুরু হলে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স দেখায় দল। ১৮ মার্চ দলে যোগ দেন সুলিভান ও তাঁর ভাই। অল্প সময়ের অনুশীলনেই নিজেকে মানিয়ে নিয়ে রোনান বুঝিয়ে দেন, তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে যাচ্ছেন।

টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। দলের ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোলই করেন—একটি ফ্রি-কিক থেকে এবং অন্যটি হেডে। ভারতের বিপক্ষেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ; তাঁর কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সতীর্থ রিয়াদ। সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত খেলা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

কোচিং স্টাফদের মতে, রোনানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর গেম সেন্স এবং দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। পারিবারিক সূত্রে বাংলাদেশি হওয়ায় দেশের প্রতি তাঁর টানও স্পষ্ট। প্রতিটি গোলের পর লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে তাঁর উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন বলেন, সঠিক পরিচর্যা পেলে রোনান বাংলাদেশের স্ট্রাইকার সংকট দূর করতে পারে। তাঁর মতে, দেশপ্রেম ও ফুটবল বোধ থাকলে উন্নতির পথ সহজ হয়ে যায়।

শুধু রোনান নন, ইংল্যান্ডপ্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজও সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে নিজেকে জানান দিয়েছেন। যদিও ফিটনেস সমস্যার কারণে তিনি সীমিত সময় খেলেছেন, তবে তাঁর টেকনিক্যাল দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়া সুলিভানের ভাই ডেকলানও ফাইনালসহ কয়েকটি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে প্রবাসী ফুটবলারদের আরও আগে থেকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে দল আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশের এই অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাফল্যের পেছনে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া বড় ভূমিকা রেখেছে। বাফুফে এলিট একাডেমির এই খেলোয়াড়রা অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায় থেকেই একসঙ্গে খেলছে, যার সুফল এখন মিলছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

আইরিশ কোচ মার্ক কক্স দায়িত্ব নিলেও মাঠের কৌশলে দেশীয় কোচদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। পাশাপাশি গোলকিপার কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্যের প্রশিক্ষণ এবং বাফুফে সভাপতির তত্ত্বাবধান দলকে আরও সুসংগঠিত করেছে।

এই শিরোপা শুধু একটি ট্রফি নয়—এটি বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রতীক। রোনান সুলিভানের মতো তরুণ প্রতিভাদের হাত ধরে দেশের ফুটবল নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলটি আজ সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে দেশে ফিরবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow