সংঘাত বাড়লে তেলের দাম ২০০ ডলার ছুঁতে পারে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত বিস্তৃত হয়ে ইরানের তেল স্থাপনায় হামলা হলে বা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে। এতে করে বাজারে তেলের ঘাটতি তৈরি হয়ে দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
জ্বালানি খাতের বিশ্লেষক টামাস ভার্গা জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে তা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠবে।
এদিকে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে মার্কিন অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্ক দ্বীপ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে—দখল বা ধ্বংস—উভয় সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াবে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। ইতোমধ্যে এই রুটে আংশিক বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
এর প্রভাব ইউরোপেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে জার্মানি জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্যমূল্য বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের অভিমত, দ্রুত সংঘাত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে বৈশ্বিক অর্থনীতি গুরুতর চাপে পড়তে পারে এবং জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
What's Your Reaction?