সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

Jun 18, 2026 - 13:02
 0  15
সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। তিনি জানিয়েছেন, কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও কৃষককেন্দ্রিক আধুনিক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই সরকার এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার Hafiz Uddin Ahmed

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য Md. Selim Reza কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের জীবনমান বৃদ্ধিতে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ কর্মসূচির আওতায় সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি আত্মনির্ভরশীল, প্রযুক্তি-ভিত্তিক এবং কৃষকবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি উল্লেখ করেন, এ ব্যবস্থায় উৎপাদন ও বিপণন তথ্যভিত্তিক হবে এবং প্রান্তিক কৃষক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন।

কৃষিখাতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভর্তুকি, সেচ সুবিধা ও কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করতে ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এ খাতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক উপকৃত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার স্বল্পমূল্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং Bangladesh Agricultural Development Corporation-এর মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, স্মার্ট কৃষি, প্রিসিশন এগ্রিকালচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর প্রযুক্তি, ড্রোন এবং ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) ব্যবহারের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। একইসঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরাসরি ধান ও গম সংগ্রহ এবং দেশব্যাপী কৃষকবাজার স্থাপনের কাজও চলছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য Md. Robiul Awal প্রশ্ন তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নদীনির্ভরতা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশটি জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

তিনি বলেন, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ এবং লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা কমানোর উদ্যোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম ধাপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা কমানো, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এ প্রকল্প থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বৃক্ষমেলা আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি, নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং নারী, শিশু ও জেলেদের সুরক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ, আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার এবং উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow