আগামী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফার কাছে সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। সেই দাবি পূরণ না হলে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে পারে ইরান। এমন তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
বুধবার তেহরানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেন, ফিফার কাছে তারা তাদের প্রত্যাশাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবেন।
তার ভাষায়, “ফিফা যদি আমাদের উদ্বেগের সমাধান করতে পারে, তাহলে আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপে অংশ নেব। কিন্তু যদি কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে কেউ আমাদের বা আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার মর্যাদাকে অপমান করতে পারে না। খেলোয়াড়দেরও যদি অসম্মানজনক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে আমরা অন্য সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারি।”
সম্প্রতি সহ-আয়োজক দেশ কানাডা মেহদি তাজকে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—দুই দেশই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক সফরে নয়। তাই খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোর দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।
এদিকে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হবে। পরে তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্প শেষে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে রয়েছে ইরান। দলটির অনুশীলন ক্যাম্প হবে যুক্তরাষ্ট্রের কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে তারা। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।