সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরলেন সেনাপ্রধান

Jun 18, 2026 - 15:21
 0  13
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরলেন সেনাপ্রধান

সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই, আর সেই বাহিনীর নেতৃত্বদানের মূল দায়িত্ব অফিসারদের ওপরই বর্তায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, দক্ষ, চৌকস, মেধাবী এবং আধুনিক নেতৃত্বগুণসম্পন্ন সেনা অফিসার তৈরির লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুগত্য, শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চির উন্নত মম শির’ মূলমন্ত্রে অনুপ্রাণিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি ধারাবাহিকভাবে কার্যকর ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে যাচ্ছে। এই অবদানের জন্য একাডেমির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বাস্তবমুখী বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে নতুন এই ব্যাটালিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তিনি দায়িত্ব পালনে সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। এদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী ক্যাডেট রয়েছেন। পাশাপাশি ৪ জন ফিলিস্তিন, ১ জন তানজানিয়া, ১ জন জাম্বিয়া এবং ১ জন মালদ্বীপের ক্যাডেটও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন।

এ কোর্সে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। অন্যদিকে, তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর সেরা বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সেনাপ্রধান একাডেমিতে নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নবীন অফিসারদের অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow